Wednesday , January 17 2018
Home / বাংলাদেশ / শনির দশা যেন কাটছেই না

শনির দশা যেন কাটছেই না

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় শনির দশা যেন কাটছেই না। আজ-কাল-পরশু করে অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এর মধ্যে উত্তরে দু’বার কমিটি ঘোষণা করা হলেও পরে তা বাতিল করতে হয়েছে। আর কমিটিগুলো নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। কমিটিতে জামায়াত-বিএনপি, এমনকি ফ্রিডম পার্টির নেতাদেরও যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। রয়েছে ত্যাগী নেতাদের স্থান না দেয়ার অভিযোগও। কমিটিতে ঠাঁই হয়েছিল মৃত ব্যক্তিরও। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। তাদের দাবি- যাচাই-বাছাই করে যোগ্যদেরই স্থান দেয়া হচ্ছে কমিটিতে।

দীর্ঘদিন পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। এর ৩ বছর পর নগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল বিভক্ত নগরের উত্তর-দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকার ৪৫টি থানা, ১০০টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলেও এর অন্তর্ভুক্ত ৪৫টি থানা ও ১০০টি ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাকি রয়ে যায়। তখন থেকেই কেন্দ্রের তাগাদা পেয়ে বারবার শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করার প্রতিশ্রতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি কেউই।
এদিকে দীর্ঘদিনে কমিটিগুলো ঘোষণা না হওয়ায় দিন যতই যাচ্ছে- ততই ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তৃণমূলের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের। এরই মধ্যে থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের কমিটি গঠন নিয়ে অনেক অভিযোগ উঠেছে। থানা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন- প্রস্তাবিত কমিটিতে টাকার বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াত, মাদক ব্যবসায়ী ও খুনের মামলার আসামিদেরও পদ দেয়া হয়েছে। স্থান পেয়েছেন মৃত ব্যক্তিরাও। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকজনের উদাহরণও তুলে ধরেছেন তারা। ফলে দু’বার উত্তরের কমিটি হলেও এসব অভিযোগের কারণে তা বাতিল করা হয়েছে।

দু’বার ঘোষণা করেও বাতিল উত্তরের কমিটি: দুই দফায় ঢাকা মহানগর উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিলেও কমিটিতে মৃতদের নাম আসা, ত্যাগীরা বাদ পড়াসহ নানা অভিযোগে স্থগিত করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ৫ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ২৬টি থানা, ৪৬টি ওয়ার্ড ও ৯টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন সংগঠনের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। ওই সময় কমিটিগুলোর বিভিন্ন পদের নেতাদের নামে বিস্তর অভিযোগ উঠায় কমিটি অনুমোদনের পরদিনই সবগুলো কমিটি স্থগিত করে দেন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি ওই কমিটির অভিযোগগুলো তদন্তের নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন তড়িঘড়ি করে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর আবারো কমিটিগুলোর অনুমোদন দিয়েছিলেন মহানগরের ওই দুই শীর্ষ নেতা। এর পরে আবারো মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কমিটির বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে গণবভনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি আবারো তা বাতিল করে দেন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সেদিন উপস্থিত মহানগর নেতাদের বলেছেন, কমিটির অনুমোদন কে দিয়েছে? জবাবে নগর নেতারা উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ওখানে কি ফারুক খানের সিগনেচার আছে? নগর নেতারা বলেন, না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফারুক খানের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো কমিটি অনুমোদন হবে না। আমি তাকে দায়িত্ব দিয়েছি, সব অভিযোগ তদন্ত করে কমিটি চূড়ান্ত করতে। আপাতত সব কমিটি স্থগিত।

কমিটিতে ছিল মৃত ব্যক্তিদের নাম: বাতিল হওয়া কমিটিতে বনানী থানা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের নাম ছিল। এই কমিটির উপদেষ্টা কমিটির ২ নম্বর উপদেষ্টা করা হয় আব্দুল মাজেদকে। অথচ তিনি গত বছরের ২১ অক্টোবর মারা যান। এ ছাড়া সাবেক দফতর সম্পাদক, ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আক্তারুজ্জামান ফরিদকে করা হয় ৫১নং সদস্য। অথচ তিনিও মারা যান গত বছরের ১১ নভেম্বর। তিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মারা যাওয়ার পর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ছাড়া ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে জায়গা হয়নি ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা সালেক ঢালীর। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করা অ্যাডভোকেট নবীয়ার হোসেনকে ভাটারা থানা কমিটিতে সহসভাপতি করা হয়েছে। আবার কমিটির সদস্যতেও তার নাম রয়েছে। নবীয়ারের ভাই ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী। সালেক ঢালী বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। দলীয় সব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। তারপরও কমিটিতে আমার জায়গা হয় না।
দক্ষিণে গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব-ক্ষোভ ও নানা অভিযোগ: ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের বিবাদ দীর্ঘদিনের। এই বিবাদের কারণেই দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন নগরের অনেক নেতা। তাদের এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাদের ডেকে সতর্ক করার পাশাপাশি নগর ভবনে এক অনুষ্ঠানে মিল করিয়ে দেন। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি বলে মনে করেন নগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। তাদের মতে, এরপর থেকে প্রকাশ্যে আর কোনো বিরোধ দেখা না গেলেও সম্পর্কে উষ্ণতা ফেরেনি। এমনকি কমিটিতে নিজেদের লোককে স্থান দেয়া নিয়ে এখনো ভেতরে ভেতরে বিরোধ রয়েছে এই দুই নেতার মধ্যে।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আত্মীয়দের বিভিন্ন থানা কমিটিতে পদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। যে কমিটি মহানগরে জমা দেয়া হয়েছে তা কাটছাঁট করে অচেনা-অজানা ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ নগরের কিছু থানা-ওয়ার্ড নেতার। তাদের অভিযোগÑ মহানগর নেতারা যাচ্ছেতাই করে কমিটি দিয়েছেন। আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেননি। ফলে উত্তরের মতো তারাও দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার কাছে থানা ও ওয়ার্ডে কমিটির তালিকা জমা দেয়ার চিন্তা করছেন। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত কমিটি মহানগর আওয়ামী লীগ ঘোষণা করলে প্রকাশ্যে মাঠে নেমে তা প্রতিহতের ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন থানার নেতারা। ফলে এই কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরে আবারো উত্তরের মতো জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তবে শুরু থেকেই এ ধরনের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দক্ষিণের নেতারা। তাদের দাবি- থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি করা হচ্ছে। এতে কারো কোনো অভিযোগ থাকার সুযোগ নেই। থানা-ওয়ার্ডের তালিকা ধরেই তারা ত্যাগীদের কমিটিতে স্থান দিচ্ছেন। মানবকণ্ঠ

Check Also

শিক্ষার্থীদের খুলি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বছর বছর বেতন বৃদ্ধি বন্ধসহ আট দফা দাবিতে আন্দোলনে নামা বেসরকারি এম এইচ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *