Thursday , January 18 2018
Home / রাজনীতি / তানোর যুবলীগ সভাপতির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড়

তানোর যুবলীগ সভাপতির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড়

আলিফ হোসেন, তানোর:
রাজশাহীর তানোরে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার দেয়া বক্তব্যর একটি অংশ (মন্তব্য) নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে সমালোচনার ঝড় ও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বশীল একজন রাজনৈতিক নেতার এমন বেফাঁস মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক অদূরদর্শীতারই প্রমাণ দিয়েছে। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারী বুধবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, মুন্ডুমালা পৌর মেয়র ও এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম রাব্বানি মুন্ডুমালা পশুহাট আলোচনা সভা আহবান করেন তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে প্রায় কুড়ি হাজার নেসতাকর্মীর উপস্থিতিতে আলোচনা সভা জনসুমুদ্রে পরিণত হয়ে উঠে। কিšত্ত উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ওই জনসুমুদ্রকে রহিঙ্গা সমাবেশ বলে তাচ্ছিলতা করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সূত্রপাত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সভায় উপস্থিত কেউ কেউ আবার এটাকে বর্ধিত সভা না বলে গিবদ চর্চা বলে মন্তব্য করেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারী শনিবার তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজারে তানোর পৌর যুবলীগের বর্ধিত সভা আয়োজন করা হয়। তানোর পৌর যুবলীগের সভাপতি রাজিব সরকার হিরোর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওহাব সরদারের সঞ্চালনে আয়োজিত বর্ধিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন,তানোর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমরুল হক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ওহাব হোসেন লালু, শফিকুল সরকার, ইকবাল মোল্লা, বকুল হোসেন ও এমরান হোসেন ভুট্টু প্রমূখ। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ময়না বক্তব্য বলেন, তানোর-গোদাগাড়ী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এমপি ফারুক চৌধূরীর কোনো বিকল্প নাই তিনি আবারো নৌকার মাঝি হচ্ছেন। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্য তাকে আবারো আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয়ী করতে হবে। তিনি বলেন, যারা এমপি ফারুক চৌধূরীর বিরোধীতা করছে তারা মূলধারার কেউ নই এরা দলে বিভেদ সৃষ্টির জন্য এসব করছে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে রাব্বানির মুন্ডুমালা পশুহাটে আয়োজিত আলোচনা সভাকে ইঙ্গিত করে বলেন, ওই সভা তো রহিঙ্গা সভা বলে এখন শোনা যাচ্ছে, সেখানে যারা উপস্থিত হয়েছিল তারা আওয়ামী লীগের কেউ না, তারা জামায়াত-বিএনপির কর্মী-সমর্থক ছিল তাদের ভোট আমাদের দরকার নাই, আমাদের মূল ধারার ভোটের দরকার। এদিকে তার এই বক্তব্যর পর পরই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূলে অসন্তোষ ও জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, যারা প্রায় কুড়ি হাজার মানুষের উপস্থিতিকে রোহিঙ্গা আঙ্খ্যায়িত করে বলেন, তাদের ভোট আমাদের দরকার নাই, আসলে তাদের রাজনৈতিক দূরদর্শীতার চরম অভাব রয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানি বলেন, তার পরিবারের প্রায় শত বছরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি বলেন, তার দাদা প্রায় ৩৫ বছর, তার বাবা প্রায় ২৫ বছর ও তিনি নিজে প্রায় ২০ বছর ধরে একটানা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তিনি বলেন, তার ডাকে সাড়া দিয়ে যদি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রোহিঙ্গা হয় তাহলে এর মূল্যায়ন করবে জনগণ, পাশপাশি যারা এসব বলছে তাদের পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস ও তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লষণ করলেই জনগণ বুঝতে পারবেন আওয়ামী লীগের মূলধারার নেতাকর্মী কারা। তিনি বলেন, যেই মঞ্চে সাত জন এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী, দু’জন পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান, জেলা-উপজেলা, পৌরসভা-ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন সেই আলোচনাসভা যদি মূলধারার না হয় তাহলে মূলধারার আওয়ামী লীগ কারা এটা জনগণ আগামি দিনে বুঝিয়ে দিবেন। তিনি বলেন, দলীয় কর্মসূচিতে কোনো নেতাকর্মীকে খাটো না করে বরং কি ভাবে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো যায়, বর্তমান-ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেয়া হলে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে। তিনি বলেন, কারো ওপর তার কোনো অভিমান বা বিদ্বেষ নাই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন তবে দল যাকে নৌকা দিবে তিনি তার পক্ষেই ভোটের মাঠে সকলকে কাজ করার আহবান জানান।

Check Also

আওয়ামী লীগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সাবরিনা সুইটি: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ চার বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *