Wednesday , January 17 2018
Home / তদন্ত প্রতিবেদন / স্কুলে ভর্তিবাণিজ্য: আসনপ্রতি ২-৩ লাখ টাকা

স্কুলে ভর্তিবাণিজ্য: আসনপ্রতি ২-৩ লাখ টাকা

 নিজস্ব প্রতিনিধি:  ঢাকার কয়েকটি নামদামি স্কুলে ভর্তিবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। আসন প্রতি ২-৩ লাখ টাকা  করে নিয়ে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করানো হচ্ছে। ভর্তি বাণিজ্যের এই কাজের সাথে যুক্ত পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শিক্ষকসহ স্কুলের বিভিন্ন ব্যক্তিরা। যমুনা টেলিভিশনের ‘থ্রিসিক্সটি ডিগ্রী’ অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে ছোট ছোট কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে চলতে থাকে অনলাইনে ভর্তির ফরমপূরণ। ২০১৭ সালে ১০ই নভেম্বর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে ১ম শ্রেণির ভর্তি যুদ্ধ থেকে মুক্তি দিতে অনেক আগেই চালু হয় আরেক পরীক্ষা পদ্ধতি। লটারি মাধ্যমে করা হয় ভর্তি। লটারির মাধ্যমে যারা ভাগ্য পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়ে তাদের কেউ কেউ ভাগ্য ফেরানোর জন্য ভিন্ন পথ খোঁজেন। কিন্তু লটারির মাধ্যমে ভর্তিতে অন্য কোনো পথ খোলা নেই।

১ম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করানোর ফলে বিকল্প রাস্তাটা খোলা না থাকলেও ২য় থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি যুদ্ধটা রয়েই যায়।

২০১৭ সালে ১৯ ডিসেম্বর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে ২য় শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণির ভর্তি যুদ্ধ শুরু হয়। পরীক্ষা চলে স্কুলের প্রধান শাখায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, পুরান ঢাকায় শাখা থাকার পরও কেন প্রধান শাখায় পরীক্ষা নেয়া হলো। অভিভাবকরা সবসময় চায় সন্তান ভালো স্কুলে পড়াশোনা করুক তাই এত কষ্ট করে অংশগ্রহণ করা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মেখলা সরকার বলেন, সন্তান বাবা-মার ওপর নির্ভর করে চলে। বাবা-মা সন্তানকে যথেষ্ঠ যোগ্য মনে করছে না কাজেই সে নিজেকে অযোগ্য মনে করে। এই যে অযোগ্যতা এর প্রভাব সারা জীবন চলে।

এর ফলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যহত হতে পারে। কমে যেতে পারে তার আত্মবিশ্বাস।

একটি নির্দিষ্ট স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে অজান্তে সন্তানের ওপর মানসিক নির্যাতন করছেন অভিভাবকরা।

সব স্কুলেই কিছু আসন অভিভাবকের কোটায় পায়। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে কিংবা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি।

কিন্তু অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, এই দুই প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন করতে গিয়ে কোনো কোনো প্রার্থী অর্ধ কোটিরও বেশি খরচ করেন।

ঢাকা মহানগরের দক্ষিণ আ.লীগের সম্পাদক জনাব গোলাম আশরাফ তালুকদার এই ২ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। মতিঝিল আইডিয়ালে আছেন দাতা অভিভাবক হিসেবে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে আছেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে।

তবে লাখ লাখ টাকা খরচ করে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন করার একটি কারণ জানালেন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু। তিনি বলেন, ৩ হাজার আসন খালি রয়েছে। তারা ঘোষণা করে ১৫’শ বা ১৮’শ। বাকি আসনগুলো তারা গোপন রেখে দেয়। পরে তারা আসন প্রতি ২-৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ভর্তি বাণিজ্য করে।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা প্রত্যেকে ৬-৭ জন ভর্তি করানোর জন্য কোটা নির্ধারণ করেন। আর এই ভর্তি বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানায় অভিভাবক ঐক্য ফোরাম।

মণিরাম পুর উচ্চ ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, এই বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের কোনো কোটা নেই। সরকারিভাবে এটা নিষিদ্ধ।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জানান, সদস্যরা মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের মাধ্যমে এসেছেন। যদি ভালো কাজ না করেন পরবর্তী হয় তারা নির্বাচিত হবেন না।

কিন্তু যারা নতুন করে নির্বাচিত হবেন তারা যে একই কাজ করবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?

রাজধানীতে ১ম শ্রেণিতে ভর্তি যোগ্য শিশুর সংখ্যা ২ লাখ। নামকরা ৪০টি বেসরকারি স্কুলে আসন আছে ১০ হাজার। প্রতি আসনের বিপরীতে লড়তে হচ্ছে ২০ জনকে।

ভর্তি নীতিমালা ২০১৫ সালে যে সকল নীতি মালা দেয়া হয়েছে সেগুলো মধ্যে সবগুলো মেনে চলেনি স্কুলগুলো।

আসন সংখ্যা জানতে চেয়ে স্কুলগুলো চিঠি পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান বলেন, এটা আমি আগে থেকেই বলবো না যে আসন শূন্য।

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষকের দাবি, তাদের নির্দিষ্ট আসনের সংখ্যায় এখনো ফাঁকা পড়ে আছে। আসন শূন্য থাকায় বাণিজ্যের সুযোগ থাকবে কেন?

ভর্তি  বাণিজ্য চক্রের একটি জায়গা হলো কোচিং সেন্টার।

অভিভাকরা জানায়, চক্রান্ত সাথে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, ড. শাহান আরা বেগম, সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুছ ছালাম খান, ছালাম খানের ভাই মো. আতিকুর রহমান খান, পিয়ন আতিক, দারোয়ান আজাদ, তাহের আলী এবং শামসু যুক্ত রয়েছেন। তারা ভর্তির ক্ষেত্রে চক্রান্ত করে ভর্তি করিয়ে থাকেন। তার বিনিময়ে হাতিয়ে নেয় টাকা।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শিক্ষার্থী অবৈধভাবে ভর্তি করানোর জন্য শাহানারাকে বরখাস্ত করার পরও আবার যোগদান করে বিদ্যালয়ে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, পাশের ভবনটিতে ছাদ ঢালাই হয়ে গেছে সেখানে কিছু অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়েছে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দারোয়ান জানায়, একটি কমিটির সদস্য হতে লাগে ২৫ লাখ টাকা। দুই বছরে দেড় কোটি টাকা আদায় করে নেয়। তারা হলেন গোলাম আশরাফ তালুকদার ওয়ার্ড কমিশনার, টিপু মতিঝিলের আওয়ামী লীগ সভাপতি, মনসুর ও মানিক সবাই এই কাজের সাথে সংযুক্ত। সূত্র: যমুনা টিভি

Check Also

‘ছবি বাইরে গেলে …খবর আছে’

  স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | নিকলীতে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশের হামলার ছবি ধারণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *