Thursday , January 18 2018
Home / খেলাধুলা / মেসিই সর্বকালের সেরা নাম্বার টেন: কুতিনহো

মেসিই সর্বকালের সেরা নাম্বার টেন: কুতিনহো

স্পোর্টস ডেস্ক: এ নিয়ে প্রশ্নই ওঠে না। কারণ, আক্ষরিক অর্থেই বিষয়টা প্রশ্নাতীত। তবু একজন প্রশ্ন করলেন ফিলিপে কুতিনহোকে। লিভারপুলে তাঁর জার্সি নম্বর ছিল ১০। দলের প্রাণস্পন্দনের প্রতীক। বার্সেলোনাতেও কি ১০ নম্বর জার্সি চান? কুতিনহো প্রশ্নটা যেন শেষই করতে দিলেন না। মুখে চওড়া হাসি এঁকে বললেন, ‘না! না! না! বার্সেলোনায় নাম্বার টেন একজনই (লিওনেল মেসি)। ও বিশ্বের সেরা, সর্বকালের সেরা নাম্বার টেন।’

এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি বলেই হয়তো কাল ন্যু ক্যাম্পে থেকেও গ্যালারিতে বসলেন না কুতিনহো। খেলা দেখলেন ভেতরের কক্ষে, বড় পর্দায়। মুগ্ধ হয়ে দেখলেন মেসি-সুয়ারেজের ভলি। পাউলিনহোকে দিয়ে মেসির আরেকটি গোল করানোর মধ্যে দেখলেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বোঝাপড়া কতটা ভালো! লেভান্তেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কুতিনহো-বরণ করল বার্সেলোনা। কুতিনহো মাঠে থেকেও থাকলেন। অনেক দিন পর ৪-৪-২ ফরম্যাট সাজাল বার্সা।

এখনো সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে কাল সংক্ষিপ্ত ছবি তোলার একটা পর্ব ছিল। কুতিনহো অবশ্য নিজের অনুভূতি না বলেই প্রকাশ করে দিয়েছেন আগেই। লিভারপুলের এত ভালোবাসা, সর্বোচ্চ বেতনের লোভনীয় প্রস্তাব, ছয় মাস ধরে তাঁকে বোঝানো, কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি। কতটা মরিয়া ছিলেন তিনি নিজেই। ব্যাকুল ছিল সমর্থকেরাও। বার্সেলোনার টুইটার পেজে পোস্ট করা সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে কুতিনহো বলেছেন, ‘হাই বার্সা সমর্থকেরা, আমি চলে এসেছি। আমার স্বপ্ন পূরণ হলো। আশা করি কাল (আজ) দেখা হবে।’

বার্সা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন আরও বিস্তারিত, ‘আমি ভীষণ ভীষণ সুখী। সব সময়ই বলে এসেছি, এটা ছিল আমার লালন করা স্বপ্ন। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে এখানে চলে এলাম। এই ক্লাবের হয়ে খেলতে, অসংখ্য শিরোপা জিততে, সমর্থকদের খুশি করতে…সব সময়ই আনন্দ নিয়ে খেলতে। ভেবেই রোমাঞ্চ হচ্ছে, আমি এত এত আদর্শ খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলব। সেই সব খেলোয়াড়, যারা অনেক ইতিহাস গড়েছে। লিও মেসি, লুইস সুয়ারেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, পিকে, বুসকেটস। তাদের অংশ হতে পেরে, তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার, একসঙ্গে অনেক কিছু জেতার সুযোগ পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত।’

কুতিনহোকে বার্সেলোনায় নিয়ে আসার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল কোচ আর্নেস্তো ভ্যালভের্দের চাওয়া। তিনি বলেছেন, ‘ও আমাদের দলে অনেক কিছু যোগ করবে। কুতিনহো গোল করতে পারে, করাতে পারে। ভেতরের দিকে খেলতে পারে, বাইরেও খেলতে পারে। লিভারপুল আর ব্রাজিল জাতীয় দলে ওকে আমি অনেক জায়গায় খেলতে দেখেছি। অবশেষে ও আমাদের দলে এল। এটা আমাদের সাহায্য করবে বলে আশা করি। ওকে অনুশীলনে কমপক্ষে এক দিন দেখে আমরা বোঝার চেষ্টা করব ও কী অবস্থায় আছে।’

নতুন দল তো শুধু নয়, নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতি। অনেক অচেনা মানুষ। সপরিবারে এখানে এসে থিতু হতে সময় তো লাগবেই। তবে কুতিনহোকে এ ব্যাপারে অনেক সাহায্য করছেন সুয়ারেজ। লিভারপুলে দুজনে একসঙ্গে দেড় বছর খেলেছেন। বার্সেলোনায় কুতিনহোর জন্য বাড়িও দেখে দিয়েছেন সুয়ারেজ। মেসি-সুয়ারেজের বাড়ির পাশেই বাড়ি নিয়েছেন। এবার ক্লাবেও কুতিনহোকে সব রকম স্বস্তি দিতে তৈরি সুয়ারেজ, ‘ক্লাব বদল সব সময়ই কঠিন। মানিয়ে নিতে হয়। আমাদের চেষ্টা করতে হবে ও যেন সবকিছুতে স্বস্তি বোধ করে। ও যেমন খেলোয়াড়, দ্রুতই মানিয়ে নেবে।’ সূত্র: এএফপি, ডেইলি মেইল, প্রথমআলো

Check Also

পারিশ্রমিক নিয়ে ক্রিকেটারদের অসন্তোষ

স্পোর্টস রিপোর্টার: একটা বছর যায়, নতুন বছর আসে। সবক্ষেত্রের পেশাজীবীই আশা করেন তার পারিশ্রমিক বাড়বে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *