Thursday , January 18 2018
Home / সারাবাংলা / ৩০ বছরে মাদারীপুরের ময়রজানের ভাগ্যে জোটেনি বিধবা কার্ড

৩০ বছরে মাদারীপুরের ময়রজানের ভাগ্যে জোটেনি বিধবা কার্ড

মাদারীপুর প্রতিনিধি: বাবা আদর করে নাম রেখেছিলেন ময়ূর। সেই ময়ূর এখন থাকে রাস্তায় রাস্তায়। বয়স প্রায় ৭০। নামটাও সময় আর পরিবেশের কারণে হয়ে গেছে ময়রজান। ময়রজানের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাহেরচর কাতলা গ্রামে। স্বামী ওমর আলী শিকদার প্রায় ৩০ বছর আগে মারা গেছে। বৃদ্ধ বয়সে স্বামী মারা যাওয়ার পর অর্ধহারে কোন রকমে দিনাতিপাত করছেন ময়রজান। অথচ এই ত্রিশ বছরে তার ভাগ্যে জোটেনি একটি বিধবা কার্ড।

ময়রজানের সাথে কথা বলে জানা যায়, ময়রজানের দুই মেয়ে হাজেরা আক্তার চম্পা ও বিলকিস আক্তার। তাদের দু’জনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। বিলকিসের বয়স যখন ৩ মাস তখন মারা গেছে ময়রজানের স্বামী। সেই সময় অনেক কষ্ট করে, বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে মেয়েদের বড় করে বিয়ে দেয়। মেয়েদের স্বামী ঢাকায় রিকসা চালায়। তাদেরও অভাবের সংসার। তাই মাকে কোন সহযোগিতা করতে পারছে না। তাছাড়া বয়স আর বিভিন্ন অসুখের কারণে কাজ করতে পারেনা ময়রজান। ঠিকমত খাওয়াও জোটে না তার ভাগ্যে। বেঁচে থাকার তাগিদে একা অসহায় ময়রজান এখন ভিক্ষা করে যা পায়, তাই দিয়েই কোন রকমভাবে বেঁচে আছেন। চোখে কম দেখা ও প্রচন্ড মাথা ব্যাথা নিয়ে নিংস্ব এই বিধবা থাকে রাস্তায় রাস্তায়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের কাছে গিয়েও ভাগ্যে জোটেনি একটি বিধবা কার্ড। এমনকি কখনও পাইনি দুঃস্থদের জন্য দেয়া সরকারিভাবে চালের কার্ড। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে শুধু চোখের জল ফেলে। গায়ে ময়লা সুয়েটার ও ছিড়া কাপড় জড়িয়ে কোন রকমভাবে দিন কাটে এই বিধবার।

সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কেঁদে কেঁদে ময়রজান বলেন, ‘ওই মেম্বরের কাছে অনেক গেছি। কিন্তু একখান বিধবা কার্ড দেয় নাই। কত মানুষরে চাল দিছে। আমারে দেয় নাই। তাই পথে পথে থাকি। ভিক্ষা করে যা পাই, তাই দিয়া কোন রকমভাবে বাইচা আছি। টাকার জন্য ডাক্তার দেখাইতে পারিনা। অনেক কষ্ট হয়।’

এব্যাপারে মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদে সভাপতি মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘এতো বয়সেও বিধবা কার্ড না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এমন অনেক ময়রজান আছে, যাদের সরকারি তরফ থেকে যা পাওয়া দরকার তা বিভিন্ন কারণেই পাচ্ছে না। আমরা দাবী করবো, ময়রজানসহ যারা অসহায় দরিদ্র নিপীড়িত তাদের সহযোগিতার জন্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সমাজসেবা অফিসের রেজিস্ট্রার আফজাল হোসেন আকন বলেন, ‘তার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। যখন বিধবা কার্ড করার সময় আসে, তখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নামের তালিকা চাওয়া হয়। যদি তখন তার নাম আসে তবে অবশ্যই কার্ড করে দিবো। যদি চেয়ারম্যান-মেম্বার নাম না দেয় তবে আমার সাথে যোগাযোগ রাখলে, আমি ব্যবস্থা করে দিবো।’

Check Also

পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁয় ড্রেজার-ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না

সদরপুর (ফরিদপুর) সংবাদদাতা : সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁয় অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *