Wednesday , January 17 2018
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / মাতারবাড়িতে নির্মাণ হচ্ছে এনার্জি হাব

মাতারবাড়িতে নির্মাণ হচ্ছে এনার্জি হাব

মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালী উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় মাতারবাড়ী এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে সরকারের একাধিক প্রকল্প। মহেশখালীতে হচ্ছে দেশের এনার্জি হাব। এখানে নির্মাণ হচ্ছে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, গভীর সমুন্দ্র বন্দর ও ইকোমিক জোন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের উপকূল জুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতি নতুন মাত্রা পাবে। আগামী ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৈনিক ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।
মাতারবাড়ীতে কুহেলিয়া নদীর তীরে ৭ হাজার ৬৫০ একর  জায়গা জুড়ে গত ২ বছর যাবৎ কর্মযঞ্জ চলছে। এখানের বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির সমন্বয়ে প্রতিটি ৬০০ মেগাওয়াট করে দু’টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় মাটি ভরাট, রাস্তা নির্মাণ, চ্যানেল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০২৩ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শেষ হবে। সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পে থাকছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কয়লা লোড- আনলোড করার জেটি, কয়লা স্টোরেজ ইয়ার্ড, অ্যাশ পন্ড নির্মাণ, ১৪ দশমিক ৫ কি.মি. দীর্ঘ ২৫০মিটার চওড়া ও ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীর সমুদ্র চ্যানেল ও ট্রেনিং সেন্টার।
কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা লোড আনলোড করার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে আর্টিফিসিয়াল ডিপ সি পোর্ট। এখানে নির্মিত কয়লা টার্মিনাল থেকে দেশের অন্যান্য স্থানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করা যাবে। জাপানি ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান জাপানি কনসোর্টিয়াম  বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ করছে। জাপানি ৫টি কোম্পানি ইকুইপমেন্ট সরবরাহ দিচ্ছে। পেন্ট-ওসেন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ডিপ সি পোর্ট নির্মাণ করবে। এর গভীরতা হবে ১৭ মিটার। বিশাল এই প্রকল্পের জন্য জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপ সি পোর্টটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজে ব্যবহার করা হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকার পশ্চিমে ড্রেজিং করে চ্যানেল নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে সমুদ্রের মাদার ভ্যাচেল থেকে আমদানি করা কয়লা খালাস করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়ে আসা যায়।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প তদারকি করছে। এ প্রসঙ্গে  কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাসেম ইত্তেফাককে বলেন, ডিপ সি পোর্টে  আমরা দু’টি জেটি নির্মাণ করবো। এগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজে ব্যবহার হবে।
কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকার কাছাকাছি মহেশখালীতেই  নির্মাণ করা হচ্ছে এলএনজি টার্মিনাল ও ইকোনমিক জোন। আগামী এপ্রিলে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে। ইতিমধ্যে মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত পাইপ লাইন নির্মাণ শেষ হয়েছে।

Check Also

‘ক্ষমতায় থাকলে ছোটখাটো দুর্নীতি করে’

  স্টাফ রিপোর্টার | আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বিএনপি চেয়ারপারসন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *