Wednesday , January 17 2018
Home / সম্পাদকীয় / জননিরাপত্তার প্রশ্নে শৈথিল্য কাম্য নহে

জননিরাপত্তার প্রশ্নে শৈথিল্য কাম্য নহে

 
রাজধানীর আবাসন খাতের নানা প্রতিবন্ধকতা লইয়া সম্প্রতি প্রকাশিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য তুলিয়া ধরা হইয়াছে। ইহাতে বলা হইয়াছে যে, রাজধানীর ৯৫ শতাংশ ভাড়া বাড়িরই কোনো জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা নাই। আবার যেইসকল বাড়িতে জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে তাহাও যথাযথভাবে চিহ্নিত নহে। তাহা ছাড়া অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় নাই উপযুুক্ত প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থাও। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্রতিবেদনটি মূলত রাজধানীতে বাসস্থানের পর্যাপ্ততা, নগরবাসীর সামর্থ্য, বাসস্থানে মৌলিক সেবার মান, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আলোকে পরিচালিত হইয়াছে। গবেষণা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী জাতিসংঘ, এনজিও এবং রাজউকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সহায়তায় এই গবেষণাকর্ম পরিচালিত হইয়াছে।
অনস্বীকার্য যে, রাজধানীতে নানা কারণে ভবন নির্মাণে কিছু অনিয়ম চোখে পড়ে। তবে ৯৫ শতাংশ ভাড়াবাড়িতে জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা নাই—তাহা মানিয়া নেওয়া কঠিন। দেশে নিরাপদ ভবন বা ঝুঁকিমুক্ত অট্টালিকা নির্মাণের জন্য যথোপযুক্ত আইন রহিয়াছে। ১৯৫২ সালের ‘বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন আইন’ অনুযায়ী দেশের যেকোনো স্থানে ভবন বা অট্টালিকা নির্মাণ করিতে হইলে নকশা অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। ১৯৫৬ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) প্রতিষ্ঠিত হইলে সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে এই ধরনের অনুমোদন প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই সময়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় নকশা অনুমোদন ও ভবন নির্মাণে নানা অনিয়ম ও ত্রুটিবিচ্যুতি অস্বাভাবিক নহে। কিন্তু বিগত কয়েক বত্সর যাবত্ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যথাযথভাবেই এই দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস। পাশাপাশি নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ১৯৯৬ সালে প্রণীত ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা’ অনুসৃত হইতেছে। ইহার ১৭ ধারার ১নং অনুচ্ছেদে বলা হইয়াছে, ইমারতের  মেঝের  যেই কোনো অবস্থান হইতে অনধিক ২৫ মিটারের মধ্যে জরুরি নির্গমন পথ থাকিতে হইবে এবং উক্ত নির্গমন পথ সিঁড়ির লবি ও লিফট-লবি হইতে পৃথক ও নিচ তলার সহিত সংযুক্ত হইতে হইবে। সেই সঙ্গে জরুরি নির্গমন পথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণাও দেওয়া আছে। বর্তমানে রাজধানীর বাহিরের মহানগরীসমূহেও এই বিধিমালার ভিত্তিতেই নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে বিধিমালা থাকা সত্ত্বেও যদি কোথাও তাহা লংঘনের ঘটনা ঘটিয়া থাকে সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হইবে। জননিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো প্রকার শৈথিল্য বা আপসের সুযোগ নাই। আমরা আশা করি, চিহ্নিত ভাড়াবাড়িগুলির তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হইবে এবং তাহারা এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হইবেন।

Check Also

নেপথ্যের সেই কুশীলব কাহারা?

  ১০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ‘বাংলাটিলা’ এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করিতে গিয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *