Wednesday , January 17 2018
Home / পজিটিভ বাংলাদেশ / গ্রামবাসীর টাকায় ৩ কিমি সড়ক সংস্কার

গ্রামবাসীর টাকায় ৩ কিমি সড়ক সংস্কার

কেউ ইট-সুরকি বহন করছেন। কেউ সেই ইট সড়কে ফেলছেন। কেউবা আবার কাঠের বাটাম, বাঁশের লাঠি দিয়ে সমতল করছেন ইটগুলো। না তারা কেউ সড়ক নির্মাণ শ্রমিক নন। গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে চাঁদার টাকায় সংস্কার করছেন তিন কিলোমিটার সড়ক।
সড়কটি এখন কাদামুক্ত। অনেকটা চলাচলের উপযোগী হয়েছে। এখন দাবী ইট-সুরকী ফেলা সড়কটি বুলড্রোজার দিয়ে সমতলের। চাঁদার টাকায় সংস্কার করা সড়কটি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রামে। জলাবদ্ধতার কারণে সেই সড়কটি বছরের ছয় মাস-ই পানিতে ডুবে থাকে। পায়ে হেঁটে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে গ্রামবাসীর। অবশেষে চাঁদা তুলে সেই সড়কে ইট-সুরকী ফেলে চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন গ্রামের মানুষ।
মহারাজপুর গ্রামের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক মো. নাসিরুজ্জামান জানালেন, মহারাজপুর গ্রামের আহাদ আলীর মোড় থেকে পশ্চিমে আব্বাস মোড়, আহাদের বাড়ি থেকে মুক্তবাজার হয়ে- মতি ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক পাকা হয় এক দশক আগে। দুই বছরের মাথায় সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হয়। কিন্তু প্রায় ছয় বছর ধরে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে ওঠে। ২০১৫ সাল থেকে বর্ষার ছয়মাস পানি-কাঁদায় ডুবে থাকে সড়কটি।
সড়ক সংস্কার কমিটির সভাপতি মোসাদ্দেক আলী জানালেন, কমিটি গঠনের পর গ্রামের প্রায় সকল মানুষকে নিয়ে দুই দফা বৈঠক করা হয়। বৈঠকে সড়ক সংস্কারে একমত হন সকলেই। পরে এক হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় অনুদান দেন গ্রামের মানুষ। এছাড়া গরিব শ্রেণির মানুষ সাধ্যমত দান অনুদান দেন। এভাবে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ হয়।
চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিন ভুট্টু সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউনিয়ন জুড়ে অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে মহারাজপুর গ্রামসহ তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মহারাজপুর গ্রামে দুর্ভোগটা বেশি। বিষয়টি লিখিতভাবে স্থানীয় সাংসদ আবদুল কুদ্দুসসহ উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া আবেদনটি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় অনুমোদন হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কমিটি-উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির নেতৃত্বে জলাবদ্ধতার কারণ সার্ভে করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে পরিকল্পিত ভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়াসহ পাকা সড়ক নির্মাণ করা হবে। তবে গ্রামবাসীর উদ্যোগে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগটি একটি ইতিবাচক দিক। আয়োজকদের সাধুবাদ জানান তিনি।

Check Also

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল শুরু

অনলাইন ডেস্ক ঘন কুয়াশার কারণে পৌনে সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *