Wednesday , January 17 2018
Home / পজিটিভ বাংলাদেশ / দুর্নীতিবিরোধী দিবসের অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতিবিরোধী দিবসের অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান

দেশে দুর্নীতিবাজরা নগ্নভাবে তাদের ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সমাজে দুর্নীতিবাজ নামক শকুনের উদ্ভব হয়েছে, আমরা এদেরকে উত্খাত করতে চাই। ঋণের নামে  ব্যাংকের অর্থ আত্মসাত্, সরকারি সেবা নিতে ঘুষ, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে দুর্নীতিবাজরা নগ্নভাবে তাদের ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে। বাংলাদেশের যে সকল দুর্নীতিবাজ ঔদ্ধ্যতের সীমা ছাড়িয়ে গেছে, তাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। আমরা দল-মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে তাদেরকে উপযুক্ত জবাব দিতে চাই। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি-বিরোধী দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্লের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি করার দিন শেষ হয়েছে। জনগণের অর্থলোপাটকারী কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। আগামী বছর কমিশন বড় বড় দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে কমিশনের রিসোর্স এবং গোয়েন্দাদের মাধ্যমে দুদক সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই সারা পৃথিবীতে দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দেশে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস সরকারিভাবে পালন করা হচ্ছে যা আমাদের দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রামে উত্সাহিত করেছে। তবে দুর্নীতি দমন শুধু দুদক বা সরকার অথবা মিডিয়া বা রাজনীতিবিদ কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রামে নামলেই কেবল দুর্নীতি নির্মূল করা যেতে পারে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির মামলায় যে সকল ব্যক্তি চার্জশিটভুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন তাদেরকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ব্যংকের বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণ করে ঋণ প্রদান করলে, দুদকের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন  নেই। বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু সম্পর্কে অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে শুধু বেসিক ব্যাংক নয়, কমিশনের সাধারণ নীতি হচ্ে্ছ যে বা যার জনগণের অর্থ আত্মসাত্ করবেন তাদের কাউকেই ন্যূনতম ছাড়ও দেওয়া হবে না।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, সেদিন হয়তো  বেশি দূরে নয়-যেদিন আমাদের দেশ থেকে দুর্নীতি চলে যাবে, সেদিন হয়তো পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও দুর্নীতি দমন কমিশন থাকবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত হবে, কারণ কোনো কাগজে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। এ দেশের মানুষ যুদ্ধ করে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। একদিন দুর্নীতি দমন কমিশনের নামটা পরিবর্তন করে  ‘সুনীতি বিকাশ কমিশন’ হবে।

আলোনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. শামসুল আরেফিন, মহারিচালক জাফর ইকবাল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ‘আসুন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গতকাল দেশব্যাপী আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সকাল সাড়ে নয়টায় দুুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কমিশনের সামনের সড়কে শান্তির প্রতীক পায়রা ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর পরই কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে রক্ষিত রেজিস্টারে নিজ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন। রেজিস্টারটি ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বসাধারণের স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *