Monday , December 18 2017
Home / আন্তর্জাতিক / জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিলেন ট্রাম্প

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিলেন ট্রাম্প

আরব বিশ্বকে উপেক্ষা করে, নিজ দেশের নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তাকে সতর্ক করেছিলেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন সহ অনেক রাষ্ট্রনেতা। কিন্তু কারো কথায় তিনি কান দেন নি। তার এ সিদ্ধান্তে মুসলিম জাহানে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে

সঙ্গে সঙ্গে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। শত শত বিক্ষোভকারী তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেটের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন হোয়াইট হাউজের কমপক্ষে দু’জন সিনিয়র কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, এতে ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি প্রচেষ্টা পথ হারাবে। ফিলিস্তিনতো উত্তেজনায় টগবগিয়ে ফুটছে। সেখানকার রাজনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্প আগুন নিয়ে খেলছেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক দশকের নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টা বিপদগ্রস্ত হলো। তার এ ঘোষণায় আরব বিশ্ব ও পশ্চিমা সমমনা মিত্ররা হতাশ হয়েছে। বুধবার ট্রাম্প তার ঘোষণায় এমন স্বীকৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করবে। এতে এক বছরের মতো সময় লাগবে। তার পূর্বসূরিরা এমন সাহস দেখান নি উত্তেজনার আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায়। উল্লেখ্য, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছার ক্ষেত্রে এই জেরুজালেমের মর্যাদা সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। কাণ, মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টানদের সবার কাছেই এটি একটি পবিত্র এলাকা। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেমকে দখল করে ইসরাইল। তারপর তারা একে তাদের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে। ফিলিস্তিনও তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে ঘোষণা করে। কিন্তু ইসরাইল তাদের দাবির পক্ষে এতদিন কোনো জোরালো সমর্থন পাচ্ছিল না। এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে সেই কাজটিই করে দিলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে তার এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে প্রশংসায় ফেটে পড়লেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু বৃটেন ও ফ্রান্স সহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শক্তিধর পশ্চিমা ঘনিষ্ঠ মিত্র তার এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এতদিন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল। তারা এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের সেই ভূমিকা ত্যাগ করেছে। ফিলিস্তিনের ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামপন্থিরা সবাই আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে ধর্মঘট আহ্বান করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, জেরুজালেমের পুরো শহরের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তারা বিশ্বাস করেন, জেরুজালেমের মর্যাদা কি হবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তাই জেরুজালেমে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ তাদের দূতাবাস স্থাপন করে নি। আন্তর্জাতিক মহল ফিলিস্তিন-ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এমন অবস্থান নিয়েছে। ঠিক সেই সময় ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে এমন একটি আন্তর্জাতিক বিরোধপূর্ণ এলাকাকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। তিনি বুধবার হোয়াইট হাউজ থেকে ঘোষণা দিলেন, ‘আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, এটাই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার উত্তম সময়। আগের প্রেসিডেন্টরা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এ নিয়ে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আজ, আমি সেই ঘোষণা দিচ্ছি’। এমনিতেই আরব বিশ্ব উত্তাল। একদিকে সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাকে যুদ্ধ চলছে। ইরান নিয়ে নানা রকম কথা। ইসরাইলের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে নানা বিতর্ক। এমন এক পরিস্থিতিতে আরব দুনিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে এ কথা বিশ্লেষকরা আগে থেকেই জানান দিয়েছেন। কিন্তু কোনো কথায় কান দেন নি ট্রাম্প

Check Also

খেতাব হারালেন সু চি

অনলাইন ডেস্ক: চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কার্যকরী কোন ভূমিকা পালন না করায় মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো নেত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *