Monday , December 18 2017
Home / তদন্ত প্রতিবেদন / গাবতলীতে আবাসিক হোটেলে চলছে প্রমোদ বাণিজ্য

গাবতলীতে আবাসিক হোটেলে চলছে প্রমোদ বাণিজ্য

রিপন রুদ্র: রাজধানীর দারুস সালাম রোডে হোটেল চৌধুরী প্রালেসে ঢোকামাত্র (পরিচয় গোপন করে) এক মধ্য রিয়াজ (৪০) বয়সী লোক জানতে চাইলেন, কি চান ভাই? সরাসরি জিজ্ঞেস করা হল- বল্লাম একটি রুমের দরকার ভাই। তিনি উত্তর দিলেন সিঙেø রুম নেই, থাকলেও ভাড়া বেশি। আপনাকে সিঙ্গেল রুম ভাড়া দিলে পাব ৫০০ টাকা আর স্বর্ট গেষ্ট ১ ঘন্টার জন্য ভাড়া দিলে পাব ৩০০০ টাকা। বলতে বলতেই চলে আসল সেজেগুজে পরিপাটি থাকা দুই নারী। তখন আমি বল্লাম ভাই ওনারা কারা, তিনি বল্লেন, ভাই এরা আমাদের কালেকশনে সব সময় থাকে যাদের দরকার হয় তাদেও প্যাকেজ হিসেবে ঘন্টা চুক্তি দিয়ে থাকি। আপনার প্রযোজন হলে দেওয়া যাবে। বিকেলে আরো মেয়ে থাকবে। কোন সমস্যা নেই। এক পর্যায়ে তার নাম জানতে চাইলে রিয়াজ বলে হোটেলের ম্যানেজার পরিচয় দেন।

সমাজের সুশীল গোষ্ঠীর অভিযোগে গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নানা অপ্রিয় তথ্য। সামাজিকভাবে অবৈধ ও ধর্মীয় দৃষ্টিতে ধিকৃত হলেও জৈবিক চাহিদা মেটাতে স্কুল-কলেজ ছাত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণি-পেশার যুবক-পুরুষরা হর-হামেশাই যাচ্ছেন এসব আমোদখানায়। অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে- মধুমতি নামক আরেকটি হোটেল যাহার মালিক শহিদ এবং জাহাঙ্গির নামক দুই ব্যক্তি।
সম্প্রত্তি, দৃশ্যত এগুলোর অধিকাংই নিন্ম মানের। যা নামে আবাসিক হলেও একটি রাত কাটানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তাই আবাসের জন্য নয়, শুধুমাত্র নারীর সঙ্গ পেতেই ওইসব হোটেলে যাতায়াত ঘটে পুরুষদের।এসব আবাসিক হোটেলের প্রায় সবগুলোই চলছে ভাড়া ভবনে। প্রত্যেক হোটেলের রয়েছে কমিশন-ভিত্তিক দালাল। যাদের কাজ হচ্ছে খদ্দের জোটানো।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি রাজধানীর কিছু এলাকায় বহুতল ভবনে ফ্লাট ভাড়া নিয়ে কতিপয় নারী চালাচ্ছেন দেহ ব্যবসা। বেছে বেছে নির্ঝঞ্জাট এলাকায় ফ্লাট ভাড়া নেয়। অন্ধকার নামলেই ওইসব ফ্লাটে বাড়ে লোক সমাগম।
দীর্ঘ দিন ধরে সামাজিক ও মৌলিক অবক্ষয়জনিক এ অপকর্ম চলে আসলেও অদৃশ্য কারণে নির্মুল হচ্ছে না। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদেও অভিযানে এসব অসামাজিক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, হোটেল সংশ্লিষ্টরা এমনটি দাবি করলেও সরেজমিনে দেখা গেছে তার ব্যতিক্রম।
অভিযোগ রয়েছে, এসব হোটেলগুলোতে নারী সরবরাহকারীদের অনেকেই দেশের বাইরে মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হোটেল কর্মচারী জানান হোটেলের ম্যানেজাররা তবে তারা কর্মরত হোটেলসহ একাধিক হোটেলে দেহ পসারিনী সরবরাহ করে থাকেন। এছাড়া বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করেন এ অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত হতে। পরিচয় গোপন করে চৌধুরীর প্যালেসের মালিক সুমন সাহেবের সঙ্গে মুঠোফোনে খদ্দের সেজে কথা বললে তিনি পতিতা সরবরাহে অস্বীকৃতি জানালেও নিয়ে গেলে সময় কাটানোর ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, তবে শীঘ্রই এসব বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আরো বিস্তারিত আছে…

Check Also

জোর যার মুল্লুক তার

 নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রুটিপূর্ণ পয়ঃনিষ্কাশন, উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনার স্তূপ এবং যেখানে-সেখানে অবৈধ স্থাপনা- সব মিলিয়ে ঢাকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *