Wednesday , January 17 2018
Home / খেলাধুলা / না থেকেও আছেন হাথুরু

না থেকেও আছেন হাথুরু

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের কোনো কোচ কি ভালোভাবে বিদায় নিয়েছেন! গর্ডন গ্রিনিজ, ডেভ হোয়াটমোর, স্টুয়ার্ট ল, জেমি সিডন্স- টাইগারদের সাফল্যে এ কজন কোচের অবদান অনেকটাই। কিন্তু কারো বিদায়টাই ভালো হয়নি। সর্বশেষ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ দলের অনেক সাফল্যের ভাগিদার। কিন্তু তিনিও বাজে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিদায় নিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে তিনি আর বাংলাদেশে ফিরেননি। অবশ্য এ সফরের মাঝপথেই নাকি তিনি পদত্যাগপত্র দিয়ে রেখেছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের কাছে।

এ কোচ এখন কোথায় তা নাকি বিসিবির কেউ জানেন না। এমনকি তার সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়াম পাড়ায় তিনি না থেকেও ছিলেন। আজ থেকে গড়াচ্ছে বিপিএলের ৫ম আসরের ঢাকা পর্ব। তাই মিরপুর মাঠে বসেছিল ক্রিকেটারদের হাট।

হাথুরুসিংহেকে নিয়ে ক্রিকেটাররা সরাসরি মুখ না খুললেও সাবেকদের অনেকেই কথা বলেছেন। আলোচনার এখন মূল প্রশ্ন কে হবেন হাথুরুসিংহের বিকল্প? দেশ থেকে কেউ নাকি বিদেশি! উত্তর সহসাই মেলা ভার। তবে দেশিদের মধ্যে খালেদ মাহমুদ সুজনের নামটি শোনা যাচ্ছে বেশ জোরালো ভাবেই। আর যে পর্যন্ত হাথুরুর বিকল্প না আসছে সেই পর্যন্ত তিনি না থেকেও থাকবেন নানা আলোচনায়।
আমরা দিশাহারা হয়ে যাইনি- খালেদ মাহমুদ সুজন

গতকাল বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ বলেন, বোর্ডের তরফ থেকে এটুকু বলতে পারি চন্ডিকাকে যতটুকু সাপোর্ট করার বিসিবি সবসময়ই করেছে। প্রত্যেকটি মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে। আমি মনে করি না চন্ডিকা এমন কিছু বলবে বিসিবির কারণে তাকে চলে যেতে হয়েছে। বিসিবি তাকে এখন পর্যন্ত দারুণ সাপোর্ট করে এসেছে। এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। বাস্তবিক জীবন এটাই কেউ আসবে কেউ চলে যাবে। বাংলাদেশ টিম টেস্ট নেশন হওয়ার পর অনেকগুলো চেঞ্জ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে কিন্তু তারা দিশা হারায়নি। ঠিক পথেই আমরা আছি, আগাচ্ছি, সামনে আরো পথ পাড়ি দিতে হবে। অনেক দূর যেতে হবে। আমি মনে করি ছেলেরা অনেক ম্যাচিউরড হয়ে গেছে। তারা এখন বেশ অভিজ্ঞ। গত ৫-৬ বছর আগে সাকিবরা যেমন অনেক টেস্ট ওয়ানডে খেলে ফেলেছে যেটা যেই কোচ হয়ে আসুক না কেন নতুন কোচ এসে অভিজ্ঞ একটা দলকেই পাবে। মনে হয় না খুব বেশি সমস্যা হবে।’ খালেদ মাহমুদ সুজনকে কোচ হিসেবেও আলোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে সুজন সরাসরি কিছু না বললেও তিনি যে প্রস্তুত আছেন সেটি বলতে দ্বিধা করেননি।

হাথুরুসিংহের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিদেশি কোচ আসবে, তারা সারা জীবন থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যেভাবে সে পদত্যাগপত্র দিয়েছে এটা পেশাদার ছিলো না। কারণ বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভালো করেছে। তার সঙ্গে যে চুক্তি, তার সুবিধা, পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত কোচ, এছাড়াও তার অনেক কর্তৃত্ব ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে অনেক কিছু করা হয়েছিল। তাই চুক্তির আগে জানালে আমাদের জন্য ভালো হতো। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট বলে দিয়েছেন যে তিনি একটা চেষ্টা করবেন। আর কিছু না হলে অবশ্যই খোঁজ নেবেন। সেই সঙ্গে এই বোর্ডে অনেক সক্ষম ব্যক্তি আছে, যেমন ক্রিকেট অপারেশন্সে আকরাম আছে, খালেদ মাহমুদ আছে, টেকনিক্যাল কমিটির আতহার আলী আছেন, নাইমুর রহমান দুর্জয় আছেন, অনেক। ক’জন সাবেক অধিনায়ক আছেন। আমার মনে হয় সবাই মিলে কিছু করে ফেলবে।’
অন্যদিকে হাথুরুসিংহে নির্বাচক কমিটিতে আসার পরই পদত্যাগ করেছিলেন ফারুক আহমেদ। তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়েও আছে নানা গুঞ্জন।

তিনি বলেন, ‘আমি কোচকে নির্বাচক কমিটিতে আনার বিরোধিতা করি নাই। আমি করেছিলাম সিস্টেমের বিরোধিতা। আমি যখন প্রথমবার ২০০৩ থেকে ২০০৭ এ ছিলাম তখন কিন্তু আমার কমিটিতে ডেভ হোয়াটমোর ছিল। তিন মাস পরেই সে সিলেকশন কমিটিতে ছিল। যখন কোনো বিদেশি সিরিজ থাকতো না তখন তাকে জাতীয় লীগের খেলা আমি দেখাতাম। একটা রোস্টারের মতো বানিয়ে আমি সিলেট, হোয়াটমোর চট্টগ্রাম, বা হোয়াটমোর ঢাকা আমি খুলনা আর অন্য দুই নির্বাচক যারা ছিল তারা ঘুরে ঘুরে ম্যাচ দেখেছি। আমার প্রশ্ন ছিল ওইরকম, আপনি যদি সিলেকশন কমিটিতে থাকেন তবে সিলেকশন কমিটির যে কাজ তার কিছুটা অন্তত করা দরকার। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা দেখতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলাটা দেখা খুব জরুরি না হলে খেলোয়াড় খুঁজে পাবেন কখন। আর পুল যেটা দেয় সেটা থেকে যদি আপনি সিলেকশন করেন তাহলে সিলেকশন কমিটি থাকার কোনো দরকার নাই। কারণ পুলতো বানায় সিলেক্টররাই। ২৪ জনের যে দলকে ডাকা হয় সেটা সিলেক্টররা বের করে নিয়ে আসে। আমি বলতে চেয়েছি কোচ যদি সিলেকশন কমিটিতে থাকে তাহলে এটা দলের জন্য ভালো হয়। আমি কখনোই বিরোধিতা করি নাই যে কোচ থাকতে পারবে না।

Check Also

পারিশ্রমিক নিয়ে ক্রিকেটারদের অসন্তোষ

স্পোর্টস রিপোর্টার: একটা বছর যায়, নতুন বছর আসে। সবক্ষেত্রের পেশাজীবীই আশা করেন তার পারিশ্রমিক বাড়বে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *